পূজা দেখতে গেলে কি ঈমান থাকবে?

admin Avatar

সামাজিক সম্পর্ক রক্ষা বা কৌতূহলবশত পূজা দেখতে যাওয়া কি ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে আবেগ বা প্রচলিত ধারণার পরিবর্তে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও নীতির আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ—আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে স্বীকার করা এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক না করা। একই সঙ্গে ইসলাম অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সদাচরণ, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়। তাই অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া এবং তাদের ধর্মীয় উপাসনায় সরাসরি অংশগ্রহণ করাকে এক করে দেখা সমীচীন নয়।

ইসলামে শিরক অত্যন্ত গুরুতর পাপ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ ۚ

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না; এ ছাড়া অন্যসকল পাপ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” (সূরা আন-নিসা, ৪:৪৮)

তাই কেউ যদি পূজার অংশ হিসেবে প্রতিমার সামনে প্রণাম করেন, দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল অর্পণ করেন কিংবা উপাসনামূলক প্রার্থনায় অংশ নেন, তাহলে তা আর নিছক দর্শনের পর্যায়ে থাকে না। এ ধরনের ধর্মীয় উপাসনায় অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক।

তবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থি নয়। বরং কুরআনে অমুসলিমদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন:

لَا يَنْهَاكُمُ اللَّهُ عَنِ الَّذِينَ لَمْ يُقَاتِلُوكُمْ فِي الدِّينِ وَلَمْ يُخْرِجُوكُمْ مِنْ دِيَارِكُمْ أَنْ تَبَرُّوهُمْ وَتُقْسِطُوا إِلَيْهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ

“যারা ধর্মের কারণে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন।” (সূরা আল-মুমতাহিনা, ৬০:৮)

অতএব, শুধু পূজামণ্ডপে উপস্থিত হওয়াকে প্রতিমাপূজা বা শিরকের সমতুল্য বলা যায় না।

একজন মুসলিমের জন্য তাই দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ: নিজের বিশ্বাস ও ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ণ রাখা এবং অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি ন্যায়বিচার, সদাচরণ ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা।

বিশ্বাসের প্রশ্নে আপস না করেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব।

মাওলানা উমর ফারুক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *