সম্প্রতি আমাদের দেশে ঘটে যাওয়া শিশু ধর্ষণ ও খুনের লোমহর্ষক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে দেশে শরিয়া আইন অনুসরণের দাবি অনেকেই তুলছেন। অনেকে এটাকেই ‘একমাত্র সমাধান’ বলছেন।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে শরিয়ার দেওয়া আইনগুলোকে অনুসরণ করা রাষ্ট্র-পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য অবশ্যই জরুরি। কিন্তু আমি মনে করি, শরিয়া আইন না থাকার চেয়েও আমাদের দেশে বড় সমস্যা হলো, সঠিকভাবে বিচার না হওয়া। সঠিকভাবে বিচার না হলে শরিয়া আইন থাকলেও কোনো কাজ হবে না।
সে যাইহোক, দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে শরিয়া আইন অনুসরণ করলে এবং সঠিকভাবে বিচার হলে অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই বড় ভূমিকা রাখবে। কারণ, বড় বড় অপরাধগুলোর জন্য শরিয়া আইনে অত্যন্ত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি রাখা হয়েছে। এগুলোর উদ্দেশ্য অপরাধীকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানুষকে পরকালে আল্লাহর শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং অন্যদের জন্য এটিকে দৃষ্টান্ত বানানো।
কিন্তু তার মানে এই নয় যে, শরিয়া আইন কার্যকর হলে দেশে অপরাধ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে। পৃথিবীতে সবসময় দুষ্ট ও অপরাধপ্রবণ লোক থাকবেই। কারণ, আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষার জন্য স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে এই পৃথিবীতে সৃষ্টি করেছেন। এর অনিবার্য ফল এটাই যে, কিছু মানুষ এই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি পেয়ে পৃথিবীতে রক্তপাত ও অন্যান্য অপরাধ সংঘটিত করবে। আদম (আ.)কে সৃষ্টির পূর্বে ফেরেশতাগণ আল্লাহর কাছে এ কথাই বলেছিলেন। আদম (আ.)-এর ছেলে কাবিল তারই ভাই হাবিলকে হত্যা করেছিল, যা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
তাই দেখা যায়, স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মদিনার শাসক ছিলেন এবং শরিয়া আইন অনুযায়ী মদিনা চলছিল, তখনও মদিনায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) সেগুলোর শাস্তি কার্যকর করেছিলেন। এমনকি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় তিনি মদিনায় থাকা অবস্থায় মসজিদে নববিতে আসার সময় রাস্তায় এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তারপর প্রকৃত অপরাধীকে বের করে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর পাথর নিক্ষেপ করে অপরাধীর মৃ*ত্যুদণ্ড (রজম) কার্যকর করা হয়েছিল। (সুনানে আবু দাউদ: ৪৩৭৯)
লেখক: মাওলানা উমর ফারুক

Leave a Reply