নারীদের চাকরি করাকে অনেকেই খারাপ চোখে দেখেন। অনেকে এটাকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও নিন্দনীয় বা নাজায়েজ মনে করেন। তারা মনে করেন, ইসলামের দৃষ্টিতে নারীদের আসল কর্মস্থল হলো ঘর। সন্তান লালন-পালন ও ঘর-সংসার সামলানোই নারীদের আসল কাজ। একজন নারী কেবল তখনই চাকরি/ব্যবসা করতে পারেন, যখন উপার্জনক্ষম কোনো পুরুষ না থাকে।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলামে এমন কোনো কথা বলা হয়নি যে, নারীদের আসল কর্মস্থল ঘর; নিরুপায় না হলে কাজের জন্য তারা ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। কুরআন বা হাদিসে কোথাও এ কথা নেই।
বস্তুত এটা তৎকালীন সমাজব্যবস্থার একটি অংশ ছিল, যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষরা উপার্জন করতো এবং নারীরা সংসার সামলাতেন। এর বড় একটি কারণ এটাও ছিল যে, আগেকার যুগে উপার্জনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শারীরিক পরিশ্রমের প্রয়োজন হতো।
কিন্তু পৃথিবীতে শিল্প বিপ্লবের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে যায়। বর্তমান যুগে দক্ষতা, মেধা ও প্রতিভা দিয়ে নারীরা অনেক কাজ করতে পারেন। অনেক কাজে কোনো কোনো নারী বরং বহু পুরুষ থেকে এগিয়ে থাকেন। বর্তমান যুগে বিভিন্ন সেক্টরে নারীদের অবদান আমাদের চোখের সামনে রয়েছে।
যাইহোক, মূল কথা হলো ইসলাম নারীদের বাইরে কাজ করতে নিষেধ করেনি এবং এ কথাও বলেনি যে, নারীদের আসল কর্মস্থল ঘর। তাই, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরে পরামর্শ করে এটা ঠিক করা উচিত যে, সংসারে কে কতটুকু সময় দিবেন এবং বাইরে কে কতটুকু কাজ করবেন। তারা পরস্পরে পরামর্শ করে যা ঠিক করবেন, তাতে ইসলামের কোনো আপত্তি নেই। বিয়ের সময়েই এসব বিষয় ঠিক করে নিলে পরবর্তীতে বিবাদের আশঙ্কা থাকে না।
এখানে মনে রাখতে হবে, পরিবারের আর্থিক ব্যয়ের দায়িত্ব যিনি গ্রহণ করবেন, তিনিই পরিবারের প্রধান হবেন। স্ত্রী তার উপার্জন থেকে পরিবারের জন্য ব্যয় না করলে তাকে স্বামীর অনুগত হয়ে থাকতে হবে।
মাওলানা উমর ফারুক

Leave a Reply