আমাদের সমাজে একটি বহুল প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, প্রয়োজন ছাড়া নারীদের জন্য ঘর থেকে বের হওয়া হারাম। অনেক ক্ষেত্রে এই ধারণার পক্ষে পবিত্র কুরআনের সূরা আহজাবের ৩৩ নং আয়াতকে দলিল হিসেবে পেশ করা হয়, যেখানে বলা হয়েছে: “তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান করো…” ।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাধারণ নারীদের জন্য ইসলামে এমন কোনো বিধান দেওয়া হয়নি। উপরে বর্ণিত সূরা আহজাবের আয়াতটির পূর্বাপর বিবেচনায় নিলে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে, এখানে মূলত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সম্মানিতা স্ত্রীদেরকে বিশেষ পরিস্থিতির কারণে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগের আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে: “হে নবী-পত্নিগণ, তোমরা অন্য নারীদের মতো নও…”। এরপর তাদেরকেই সম্বোধন করে বলা হয়েছে: “তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান করো…”।
সূরা আহজাবের এ আয়াতগুলোতে নবী (সা.)-এর সম্মানিতা স্ত্রীদের জন্য বিশেষ কিছু বিধান দেওয়া হয়েছে একটা পরিস্থিতির কারণে এবং আয়াতগুলোর বক্তব্য থেকেই এই পরিস্থিতির চিত্র ফুটে ওঠে।
পুরো সূরা পড়লে যে পরিস্থিতি সামনে আসে, তা হলো:
“সেই সময়টাতে মুনাফিকরা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি নবী (সা.)-এর পারিবারিক শান্তি নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। মুনাফিক নারী ও পুরুষরা নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের মনে এই বলে কুমন্ত্রণা দিত যে, নবী (সা.)-এর সংসারে তাঁরা অত্যন্ত কষ্টের জীবন অতিবাহিত করছেন; অথচ অন্যত্র বিয়ে হলে তাঁরা ঐশ্বর্যের মধ্যে রানির মতো থাকতেন। এই মুনাফিকদের আসল উদ্দেশ্য ছিল নবী (সা.)-এর ঘরে অশান্তি বা বড় কোনো ফিতনা সৃষ্টি করা। নবী (সা.)-এর স্ত্রীগণ বাইরে বের হলে তারা সুযোগ খুঁজত, যাতে কোনো একটি অজুহাত বের করে তাদের চরিত্র নিয়ে অপপ্রচার করতে পারে।”
এমনই এক পরিস্থিতিতে সূরা আহজাবে নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের জন্য বিশেষ কিছু বিধান দেওয়া হয়, যার মধ্যে ঘরে অবস্থানের নির্দেশও রয়েছে। এই বিধানের সাথে সাধারণ মুসলিম নারীদের কোনো সম্পর্ক নেই।
মাওলানা উমর ফারুক

Leave a Reply