হজরত সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তির আত্মা তার দেহ থেকে এমন অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হবে যে, সে তিনটি জিনিস থেকে মুক্ত ছিল: প্রথমত অহংকার, দ্বিতীয়ত ঋণ এবং তৃতীয়ত বিশ্বাসঘাতকতা; সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (মুসনাদে আহমদ: ২২৩৬৯)
রাসুল (সা.) অনেক সময় এমন অপরাধ বা পাপের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলো থেকে মানুষ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখলে আল্লাহ তার ছোটখাটো ভুল ক্ষমা করে দেবেন। যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে বড় বড় পাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করে চলে, তবে তার মধ্যে সামগ্রিকভাবে দ্বীনদারি, উন্নত নৈতিকতা এবং আল্লাহর প্রতি বিনয়ী মনোভাব তৈরি হবে। আল্লাহ কিয়ামতের দিন যে ফয়সালা করবেন, তার ভিত্তি হলো মানুষের সামগ্রিক আচরণ। এই বিষয়টি পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে বলা হয়েছে যে, যদি মানুষ বড় বড় পাপ থেকে বেঁচে থাকে, তবে আল্লাহ তাদের ছোট ভুলগুলোকে ক্ষমা করে দেবেন। তাদেরকে জবাবদিহির সম্মুখীন করবেন না।
অনেক হাদিসে বিভিন্ন কাজের ব্যাপারে এভাবে বলা হয়েছে: “যদি মানুষ এই কাজ করে তাহলে জান্নাতে যাবে, যদি ওই কাজ করে তাহলে জান্নাতে যাবে।” এই ধরনের সমস্ত সুসংবাদ সেই সত্যবাদী মুমিনদের জন্য, যারা জান্নাতে প্রবেশ করার আকাঙ্ক্ষা এবং তার প্রস্তুতিতে জীবন কাটায়। অর্থাৎ, যাদের সামগ্রিক আচরণ এমনই হয় যে, আমরা এই দুনিয়াতে সাময়িকভাবে আগমন করেছি, একদিন আমাদের এখান থেকে চলে যেতে হবে। তারা মূলত এই বিষয়কে সামনে রেখেই জীবনযাপন করে। কিন্তু কখনো কখনো তাদের পদস্খলন ঘটে এবং তারা পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে।
মানুষের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না যে, সে আল্লাহকে মেনে নিয়েছে, আখিরাতকে মেনে নিয়েছে, তাই এখন তার কোনো ভুল হবে না, সে কোনো পাপ করবে না। মানুষকে এমনভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে যে, সে ভুল কাজ করবেই।
মানুষের মধ্যে প্রবৃত্তি রয়েছে, যৌন আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। এই সব কিছু কখনো কখনো প্রাধান্য বিস্তার করে এবং যে বুদ্ধি তাকে দেওয়া হয়েছে, যে দ্বীনি জ্ঞান ও উপলব্ধি তাকে দান করা হয়েছে, তা কখনো কখনো দুর্বল হয়ে পড়ে। যখন এই আকাঙ্ক্ষা প্রাধান্য পায়, প্রবৃত্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে অথবা যৌন উন্মাদনা মানুষকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখন সে বড় থেকে বড় ভুলও করে ফেলে।
তাই মানুষের উচিত বড় বড় পাপ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা। সবচেয়ে বড় পাপ হলো অহংকার। অহংকার কী? অহংকার হলো সত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, অন্যদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। এটাকে পবিত্র কুরআনে অহংকার বলা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত বলা হয়েছে, ঋণ থাকা উচিত নয়। অর্থাৎ, আল্লাহ মানুষকে যে সুযোগ-সুবিধা ও জীবনোপকরণ দিয়েছেন, তাতেই তার জীবন অতিবাহিত করা উচিত। সম্পদ বাড়ানোর চেষ্টা করা, উন্নতির চেষ্টা করা – সেটা ভুল নয়। কিন্তু যা আছে, তার মধ্যে নিজের বাজেট তৈরি করে জীবনযাপন করা – এটাই সম্মানের কাজ। অন্যথায়, একবার যদি কেউ ঋণ নিতে শুরু করে, তাহলে এটি অভ্যাসে পরিণত হয়।
তৃতীয় বিষয় হলো, বিশ্বাসঘাতকতা। কেউ যদি বিশ্বাসঘাতকতা থেকে বেঁচে থাকে তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন এবং তার জন্য জান্নাতের ফয়সালা করবেন।
নবী (সা.) সুসংবাদ দিয়েছেন যে, মানুষ যদি এই তিনটি বিষয় থেকে বেঁচে থাকে, তাহলে আল্লাহ তার ছোটখাটো ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।
উস্তাদ জাভেদ আহমেদ গামিদি
অনুবাদ: আল মানার ইনস্টিটিউট

Leave a Reply