সুন্নাত নামাজ কি আসলেই সুন্নাত?

সুন্নাত নামাজ কি আসলেই সুন্নাত?
Moderator Avatar

নামাজসহ সকল ইবাদত মূলত দুই প্রকার; ফরজ ও নফল। যে ইবাদত করলে আল্লাহ আপনাকে পুরুস্কার প্রদান করবেন আর না করলে আপনাকে তার জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে, ঐ ইবাদতকে ফরজ ইবাদত বলা হয়। ফরজ ইবাদত না করলে আল্লাহ আপনাকে শাস্তি প্রদান করবেন নাকি ক্ষমা করে দিবেন, সেটা সম্পূর্ণ আল্লাহতায়ালার বিষয়। ফরজ নামজগুলো হলো: ফজরে দুই রাকাত, জোহরে চার রাকাত, আসরে চার রাকাত, মাগরিবে তিন রাকাত ও এশারে চার রাকাত। ফরজ নামাজ ব্যতিত অন্যান্য ফরজ ইবাদত হলো: ফরজ হজ, ফরজ রোজা ইত্যাদি।

ফরজ ব্যতিত অন্যান্য সকল ইবাদত হলো নফল। যে ইবাদত করলে আল্লাহ আপনাকে পুরষ্কৃত করবেন, আর না করলে আপনাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে না এবং এর জন্য আল্লাহ আপনাকে কোনো শাস্তিও প্রদান করবেন না, তা মূলত নফল ইবাদত। যেহেতু এটি বাধ্যতামূলক ইবাদত নয়, বরং ঐচ্ছিক ইবাদত; সুতরাং এটা আদায় করলে আল্লাহর কাছে বান্দার সম্মান বৃদ্ধি পায়। কারণ বাধ্যতামূলক ইবাদত না হওয়ার পরেও, বান্দা নিজের পক্ষ থেকে এই ইবাদত করেছে। যেমন নফল রোজা, নকল হজ, দিনের বিভিন্ন সমায় নফল নামাজ এই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এই সকল ইবাদতও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কুরআনে এই সকল ইবাদতকে ভালকাজ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

আল্লাহ বলেছেন,

আর যে নিজ আগ্রহে কোনো ভালো কাজ করে, আল্লাহ তার সেই ভালো কাজকে সাদরে গ্রহণ করেন।

 (সুরা বাকারা: ১৫৮)

মনে রাখতে হবে, আপনি যদি সারাজীবন কোনো নফল ইবাদত নাও আদায় করেন, তাতেও আল্লাহর কাছে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে না। তবে এই ইবাদত করলে আল্লাহ অনেক খুশি হন। কারণ আবশ্যক না হওয়ার পরেও তাঁর বান্দা তাঁর সন্তুটির জন্য অতিরিক্ত ইবাদত করছে। আমাদের মাঝে আরেক  ধরনের ইবাদতের প্রচলন আছে, যাকে আমরা সুন্নাত ইবাদত হিসাবে বিবেচনা করি।  রসুল (স) ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি নফল ইবাদতও করতেন। যে নফল ইবাদত রসুল (সা) সর্বদা আদায় করতেন, সেই ইবাদতকে মানুষ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ হিসাবে বিবেচনা করে। আর যে নফল ইবাদত রসুল (স) মাঝে মাঝে আদায় করতেন অথবা কখনো আদায় করেননি, কিন্তু অন্যকে করার উপদেশ দিয়েছেন কিংবা আদায় করার সম্মতি প্রদান করেছেন; সেই নফল ইবাদতকে মানুষ সুন্নাতে গায়রে মুয়াক্কাদাহ হিসাবে বিবেচনা করে। এই সকল নফল ইবাদতের সুন্নাত নামকরণ মানুষের দ্বারা সৃষ্টি। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে তাহাজ্জুদ কি সুন্নাহ নাকি নফল ইবাদত? রসুল (স)-এর জন্য তাহাজ্জুদ নামাজ ফরজ ছিল। তিনি সর্বদা তা আদায় করতেন। সাহাবি (রা)গণ তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করতে চাইতেন। কিন্তু রাতে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা কষ্টসাধ্য বিষয় ছিল সাহাবিদের জন্য। এই বিষয়ে সাহাবিগণ রসুল (স)কে জিজজ্ঞাসা করলে, তিনি সাহাবিদের বলেন, এশার নামাজে তোমরা এই নামাজ আদায় করতে পারো। তাহাজ্জুদ নামাজ বিজোড় আদায় করতে হয়। আর এভাবেই  বিজোড় করে বিতর নামাজের প্রচলন শুরু হয়েছে। সুতরাং বিতর নামাজ আদায় করাও মুসলমানদের জন্য নফল ইবাদত, সুন্নাত নামাজ নয়। অতএব, পাচ ওয়াক্ত নামাজে ফরজ নামাজ ব্যতিত অন্য নামাজ আদায় করা বাধ্যতামূলক নয়, তবে সেই সকল নফল নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম যা করআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমানিত।

লেখক: আবু সালেহ মোহাম্মদ মুসা

(উস্তাদ জাভেদ আহমদ গামিদির লেকচারের আলোকে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *