হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: “অমুক নারী রাতে নামাজ পড়ে এবং দিনে রোজা রাখে (অর্থাৎ সে নিয়মিত নফল নামাজ ও রোজা পালন করে), কিন্তু সে তার প্রতিবেশীদেরকে কথার মাধ্যমে কষ্ট দেয়।” রাসুল (সা.) বললেন, “সে জাহান্নামি।” আবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো: “অমুক নারী ফরজ নামাজ পড়ে, রমজানের রোজা রাখে এবং সামান্য কিছু দান করে, কিন্তু সে কাউকে কষ্ট দেয় না।” রাসূল (সা.) বললেন, “সে জান্নাতি।” (মুসনাদে আহমদ: ৯৬৭৩)
এখানে রাসুল (সা.) এই প্রশ্নের জবাবে ইসলামের মূল বার্তা তুলে ধরেছেন। সকাল-সন্ধ্যা নামাজ পড়া, নফল পালন করা, এগুলো অত্যন্ত মূল্যবান ইবাদত। কিন্তু এগুলো নৈতিক দায়িত্বের তুলনায় অধিক মর্যাদা রাখে না। ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ হয়। কিন্তু কাদের তা লাভ হয়? যারা হুকুকুল ইবাদ (বান্দার অধিকার)-এর ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা মেনে চলে, মানুষের অধিকার খর্ব করে না, কারো জীবন, সম্পদ ও সম্মানের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করে না। মানুষের অধিকার খর্ব করলে এবং জীবন, সম্পদ ও সম্মানের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করলে নামাজ-রোজা কখনোই কবুল হবে না।
নিছক নামাজ, রোজা বা হজ মানুষকে পরকালে মুক্তি দিতে পারে না। অনেকে জিজ্ঞেস করে এ কথা কোথায় লেখা আছে? এই হাদিসের মধ্যেই মূলত এই কথা লেখা আছে। এই সমস্ত ইবাদত, স্বাভাবিকভাবে, সেই নারীর জন্য গুনাহের কাফফারা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু রাসুল (সা.) বলে দিয়েছেন, এমনটি হবে না, মানুষের সাথে তার বাজে আচরণ তাকে জাহান্নামে পৌঁছে দিবে। সে কাউকে হত্যা করেনি, কারো সম্পদ লুট করেনি, কিন্তু প্রতিবেশীদের সাথে বাজে আচরণ করতো। এই কারণে তার ইবাদতগুলো কাজে আসবে না, সে জাহান্নামে যাবে।
আর দ্বিতীয় নারীর ব্যাপারে বলেছেন, সে ইবাদতের ক্ষেত্রে শুধু ফরজ ইবাদত পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকেছে, বা সামান্য কিছু দান করেছে। কিন্তু নিজের আচরণের মাধ্যমে মানুষকে কষ্ট দেয়নি। অর্থাৎ তার আচরণ নৈতিক দিক থেকে মানুষের অধিকার খর্ব হয়নি। তাই সে জান্নাতে যাবে।
ইসলামে নৈতিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। যদি কোনো ব্যক্তি নামাজ-রোজার গুরুত্ব দেওয়ার পরেও কারো অধিকার খর্ব করে, মানুষের জীবন সম্পদ ও সম্মানের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করে, তাহলে কিয়ামতের দিন সে জাহান্নামে যাবে। নামাজও সেখানে কাজে আসবে না, রোজাও কাজে আসবে না।
হাদিসের মধ্যে গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার যত সুসংবাদের কথা বলা হয়েছে তা মূলত হুকুকুল্লাহ (আল্লাহর অধিকার) সম্পর্কিত গুনাহ। আল্লাহ চাইলে বান্দার এমন গুনাহ মাফ করতে পারেন। কিন্তু বান্দার সাথে সম্পর্কিত গুনাহ কখনোই আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, যদি না বান্দা ক্ষমা করে। সুতরাং নিজের আমলকে অন্যায় থেকে পবিত্র রাখুন, মানুষের অধিকার খর্ব করা থেকে বিরত থাকুন। কারো সাথে ভালো আচরণ করতে না পারলে, অন্ততপক্ষে খারাপ আচরণ করবেন না। এর পরেই আপনার ইবাদত আপনার জন্য উপকারী হবে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভেরও মাধ্যম হবে।
উস্তাদ জাভেদ আহমেদ গামিদি
অনুবাদ: আল মানার ইনস্টিটিউট

Leave a Reply