বাংলা বর্ষপঞ্জিকার বৈশাখ মাসের ১ম দিন প্রতিবছরই ‘বাংলা নববর্ষ’ বা ‘পহেলা বৈশাখ’ সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে নারী-পুরুষের বিশেষ সাজ-সজ্জা, পান্তা-ইলিশ খাওয়া, বৈশাখী মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গান এবং বৈশাখী (আনন্দ/মঙ্গল) শোভাযাত্রা ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়।
এক কথায় এটি একটি বাঙালি উৎসব বা সংস্কৃতি, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালিরা উদযাপন করে। অপরদিকে আমাদের আলেমগণ এটিকে শিরক বা হারাম বলে ফতোয়া দেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন আসে, আসলেই কি এটি শিরক বা হারাম? প্রথমে আসি শিরকের বিষয়ে। ইসলামের পরিভাষায় শিরক হলো আল্লাহর সত্তা, গুণাবলী বা ক্ষমতা ও এখতিয়ারে অন্য কাউকে শরিক করা। তাই পহেলা বৈশাখ উদযাপন শিরক হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। কারণ, এতে আল্লাহর সাথে কাউকে কোনো কিছুতেই শরিক করা হয় না। আনন্দ/মঙ্গল শোভাযাত্রার ব্যাপারে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। কারণ, এতে বিভিন্ন প্রাণীর প্রতৃকৃতি বহন করা হয়। তারা এগুলোকে পূজার মূর্তির সাথে তুলনা করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলোর সাথে ধর্মীয় বিশ্বাসের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ধর্মীয় কোনো বিশ্বাসের ভিত্তিতে এগুলো বহন করা হয় না। এটি সম্পূর্ণই একটি জাতীয় সংস্কৃতি। এতে প্রতীকীভাবে মূলত মঙ্গল কামনা করা হয়, কারো কাছে মঙ্গল প্রার্থনা করা হয় না। অন্তরে কামনা করা এক জিনিস আর কারো কাছে প্রার্থনা করা আরেক জিনিস।
এবার আসি হারাম হওয়ার বিষয়ে। দিবস পালন বা উদযাপন মূলত হারাম কিছু নয়। আল্লাহ তায়ালা যে বিষয়গুলো হারাম করেছেন, তা সূরা আরাফের আয়াত ৩৩-এ সুনির্দিষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন: “(হে নবী), আপনি বলুন, আমার প্রভু শুধু এই বিষয়গুলো হারাম করেছেন—প্রকাশ্য ও গোপন সবধরনের অশ্লীলতা, কর্তব্যপালনে অবহেলা, অন্যায় সীমালঙ্ঘন, আল্লাহর সাথে এমন কাউকে শরিক করা যার ব্যাপারে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি, আল্লাহর নামে এমন কথা চালিয়ে দেওয়া যার কোনো জ্ঞানগত ভিত্তি তোমাদের কাছে নেই।”
দিবস পালন বা উদযাপন বর্ণিত এই পাঁচটি বিষয়ের কোনোটিতেই পড়ে না। শিরকের ব্যাপারে আগেই বলেছি। বিদাত বলারও সুযোগ নেই। কারণ, বিদাত হলো যা ‘আল্লাহর নামে’ চালিয়ে দেওয়া হয়, যেমনটি আয়াতে পাঁচ নাম্বারে বলা হয়েছে। আর এসব দিবস তো কেউ ধর্মের নামে বা আল্লাহর নামে পালন করে না। তবে দিবস পালন করতে গিয়ে যদি কোনো ধরনের অশ্লীলতা করা হয় বা কোনোভাবে মানুষের অধিকার নষ্ট করা হয় তাহলে সেই কাজটি অবশ্যই হারাম।
অনেকে আবার এটিকে ভিন্ন জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন হিসেবে হারাম বলেন এবং এ বিষয়ে প্রমাণ হিসেবে একটি হাদিস পেশ করেন। বস্তুত হাদিসটির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য কমেন্টে দেওয়া লিংক থেকে ‘দিবস পালন কি হারাম’ শিরোনামে আমার ভিডিও আলোচনাটি শুনতে পারেন।
মাওলানা উমর ফারুক

Leave a Reply