খেজুর দিয়ে ইফতার করা কি সুন্নাত?

admin Avatar

রমজান মাস এলেই আমাদের দেশের মুসলমানদের মাঝে খেজুর কেনার একটি ধুম পড়ে যায়। ইফতারের আয়োজনে আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, অন্তত একটি খেজুর দিয়ে ইফতার করাকে অনেকেই সুন্নত মনে করেন। মানুষের এই বিশ্বাসের কারণে প্রতি বছর রমজানে খেজুরের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয় এবং এর দামও বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো— খেজুর দিয়ে ইফতার করা কি আসলেই সুন্নাত?

এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে হলে আগে আমাদের জানতে হবে, ‘সুন্নত’ আসলে কাকে বলে? রাসুল (সা.) কোনো একটি কাজ করেছেন বা কোনো একটি নির্দিষ্ট খাবার খেয়েছেন— শুধু এই কারণেই সেটি সুন্নাত হয়ে যায় না। সুন্নাত বলতে বোঝায় এমন আমল বা বিধান, যা রাসুল (সা.) দ্বীনের অংশ হিসেবে করেছেন অথবা সাহাবায়ে কেরামকে দ্বীনের একটি আমল হিসেবে পালন করার নির্দেশ বা উৎসাহ দিয়েছেন।

হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, ইফতারের সময় রাসুল (সা.) খেজুর খেতেন। কিন্তু তাই বলে এটি সুন্নত হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল হওয়ার পাশাপাশি আরবের একজন মানুষও ছিলেন। তিনি আরবের সমাজে বসবাস করতেন। সে সময় আরবের সমাজে যেসব খাবার প্রচলিত ও সহজলভ্য ছিল এবং যেসবের ফলন ভালো হতো, তিনি স্বাভাবিকভাবেই সেসব খাবার গ্রহণ করতেন।

বিশেষ করে মদিনাতে সে সময় প্রচুর খেজুরের বাগান ছিল এবং খেজুরের ফলনও অত্যন্ত ভালো হতো যা আজও অব্যাহত আছে। মদিনায় খেজুর সহজলভ্য হওয়ায় রাসুল (সা.) ইফতারে খেজুর খেতেন এবং সাহাবিরাও তা খেতেন।

কিন্তু রাসুল (সা.) ইফতারে খেজুর খাওয়াকে দ্বীনের কোনো আমল বা ধর্মীয় বিধান হিসেবে নির্ধারণ করেননি। তিনি কাউকে ইফতারে খেজুর খাওয়ার জন্য ধর্মীয় নির্দেশ হিসেবে কিছু বলেননি। এটি ছিল তৎকালীন আরবের একটি স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস। সুতরাং, ইফতারে খেজুর খাওয়াকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ‘সুন্নাত’ বা দ্বীনের অংশ মনে করার কোনো সুযোগ নেই।

তবে হ্যাঁ, যেহেতু রাসুল (সা.) খেজুর খেতেন, তাই তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও অনুরাগের জায়গা থেকে আমরা ইফতারে খেজুর খেতেই পারি। এতে কোনো বাধা বা সমস্যা নেই। কিন্তু একে ধর্মের অংশ বা সুন্নাতি আমল হিসেবে বিশ্বাস করা সঠিক নয়।

মাওলানা উমর ফারুকের লেকচারের আলোকে

লেখক: আল মানার ইনস্টিটিউট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *