পবিত্র কুরআনের বহু স্থানে আল্লাহ জান্নাতে যাওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ বলেছেন: যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্যই রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস।{১} কুরআনের অনেক আয়াতে এমন কথা বলা হয়েছে। এসব আয়াত থেকে স্পষ্ট যে, জান্নাতে যাওয়ার জন্য মূলত দুটি জিনিসের প্রয়োজন:
১. ঈমান (বিশ্বাস)
২. আমলে সালেহ (সৎকর্ম)
ঈমান বলতে বোঝায় আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, নবী-রাসুলগণ, আসমানি কিতাবসমূহ এবং পরকালের প্রতি সঠিক ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা। অন্যদিকে, আমলে সালেহ বা সৎকর্মের পরিধি অনেক ব্যাপক। এটি কেবল নামাজ-রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সৎকর্ম হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে—সেটা চলাফেরা হোক, ওঠাবসা হোক কিংবা লেনদেন—সর্বাবস্থায় আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের প্রতি সৎ থাকা এবং নিজের চরিত্রকে পবিত্র রাখা। নিজের ওপর অর্পিত প্রতিটি দায়-দায়িত্ব সততার সাথে পালন করাই হলো সৎকর্ম। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাদের মধ্যে এই ঈমান ও সৎকর্ম থাকবে, তারাই জান্নাতে যাবে।
এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে আমরা কাকে ভোট দেব? এ বিষয়ে মনে রাখতে হবে, ভোট একটি পবিত্র ‘আমানত’। এই আমানত রক্ষা করার জন্য আপনাকে দেখতে হবে—যার কাছে আপনি এই দায়িত্বটি তুলে দিচ্ছেন, তিনি কি এর যোগ্য? তিনি কি এই কাজের মানুষ এবং তিনি কি সৎ? তার দল কি সুন্দরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে এবং তার দলের চিন্তা ও কর্ম কি ভালো?
ইসলামি দলের প্রার্থী হওয়া বা আলেম হওয়া এখানে মূখ্য নয়, বরং প্রার্থীর সততা ও যোগ্যতা এবং তার দলের চরিত্র দেখা এখানে মূখ্য।
পরিশেষে বলা যায়, কোনো ইসলামি দলকে ভোট দিলেই জান্নাতে যাওয়া যাবে, এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই। জান্নাত লাভের উপায় হলো ঈমান ও সৎকর্ম। আর ভোটের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও আবেগকে বিসর্জন দিয়ে কাজের মানুষ ও সৎ ব্যক্তিকে এবং ভালো চিন্তা ও চরিত্রের দলকে ভোট দেওয়া জরুরি। এটাও সৎকর্মের অন্তর্ভুক্ত এবং এটা আমাদের ধর্মীয় দায়িত্বও বটে।
মাওলানা উমর ফারুকের লেকচারের আলোকে
লেখক: আল মানার ইনস্টিটিউট
তথ্য সূত্র
১. সূরা আল-কাহফ: ১০৭-১০৮

Leave a Reply