রিসালাতের বিশেষ আইন

admin Avatar

ইবনে কাসির (রহ.) তার ‘আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া’ গ্রন্থে হাতিব ইবনে আবি বালতাআ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে মিশরের রাজা মুকাওকিসের একটি সাক্ষাৎকারের ঘটনা উল্লেখ করেছেন।

হাতিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, “রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে একটি পত্র দিয়ে মিশরের রাজা মুকাওকিসের কাছে পাঠান। আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন রাজা আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং আমাকে তার আতিথ্য গ্রহণ করতে বলেন। তিনি তার সেনাপতিদের সমবেত করে আমাকে সেখানে ডাকেন।

এরপর রাজা মুকাওকিস বললেন: আমি আপনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা জিজ্ঞেস করতে চাই। আমার অনুরোধ, আপনি মনোযোগ দিয়ে আমার কথাটি শুনবেন।

হাতিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু): জি, বলুন।

রাজা মুকাওকিস: আপনার সেই সঙ্গী, অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) — তার সম্পর্কে আমাকে কিছু বলুন। তিনি কি আল্লাহর নবী?

হাতিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু):

তিনি শুধু নবী নন, বরং আল্লাহর প্রেরিত একজন রাসুল।

রাজা মুকাওকিস: যদি সত্যিই তিনি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল হন, তবে তার জাতি যখন তাকে নিজ শহর মক্কা থেকে বের করে দিল, তখন তিনি কেন তাদের জন্য আল্লাহর শাস্তি কামনা করলেন না?

হাতিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু): আপনি কি ইসা (আলাইহিস সালাম)-কে আল্লাহর রাসুল হিসেবে বিশ্বাস করেন না?

রাজা মুকাওকিস: অবশ্যই বিশ্বাস করি।

হাতিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু): তাহলে বলুন তো, যখন তার জাতি তাকে ঘেরাও করেছিল, তাকে ক্রুশবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল এবং এরপর আল্লাহ তাকে আকাশে তুলে নিলেন — তখন তিনি কেন দোয়া করেননি যে, তার প্রতিপালক যেন বনি ইসরাইলকে ধ্বংস করে দেন?

রাজা মুকাওকিস: আপনি একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি, আর আপনি এসেছেন একজন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির কাছ থেকে। আমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য এই উপহারগুলো আপনাকে দিচ্ছি। আমার এই প্রহরীরা আপনাকে আপনার শহরের সীমান্তে নিরাপদে পৌঁছে দেবে।

এখানে লক্ষ্য করুন, হাতিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছিলেন, “তিনি শুধু নবী নন, বরং আল্লাহর প্রেরিত রাসুল” — এই কথাটি প্রমাণ করে যে, রিসালাত মূলত নবুয়তের চেয়ে এক ধাপ উপরের মর্যাদা।

নবী ও রাসুলের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে আলেমদের মধ্যে যদিও মতভেদ রয়েছে, তবে কুরআন থেকে এতটুকু পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে, এই দুটি পরিভাষা এক নয়; বরং তাদের তাৎপর্য ও প্রয়োগ সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আল্লাহ বলেছেন:

(হে নবী), আমি আপনার পূর্বে যত রাসুল বা নবী পাঠিয়েছিলাম সবাই এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন যে, যখনই তিনি কোনো আকাঙ্ক্ষা করেন, তখনই শয়তান তার আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে বাধা সৃষ্টি করে। অতঃপর আল্লাহ শয়তানের বাধা দূর করেন, এরপর তাঁর আয়াতসমূহ প্রতিষ্ঠিত করেন। বস্তুত আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়। (কুরআন, সুরা হজ্জ, ২২:৫২)

এই আয়াত থেকেই প্রমাণ হয়ে যায় যে, নবী ও রাসুল মূলত ভিন্ন দুটি পরিভাষা। ইমাম যামাখশারি (রহ.) এই আয়াতের তাফসিরে লিখেছেন: دلیل بین علی تغایر الرسول والنبی অর্থাৎ, এই শব্দগুলো নবী ও রাসুলের পার্থক্যের ওপর একটি সুস্পষ্ট দলিল (আল-কাশশাফ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬৪)।

নবী ও রাসুলের এই পার্থক্য আসলে তাদের দায়িত্বের ধরন এবং তাদের সম্পর্কে আল্লাহর সুন্নাত বা বিধানের পার্থক্যের ওপর নির্ভরশীল। নবী ও রাসুলের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো:

১. একজন নবী আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষকে সত্যের পথে আহ্বান করেন। তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা বা তাকে অস্বীকার করা — মানুষের ইমান ও কুফরের মানদণ্ড। সেই কারণে, তার ক্ষেত্রে আল্লাহ বিশেষভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন যে, তিনি তার পূর্ববর্তী নবীর ভবিষ্যদ্বাণীর পূর্ণতা রূপে আগমন করেন।

পক্ষান্তরে, একজন রাসুলের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হয়ে ওঠে। রাসুলের আগমনের পূর্বে কেবল একজন নবী নয়, নবীদের একটি দল তাদের জাতিকে ধর্মের দাওয়াতের পাশাপাশি সেই ভবিষ্যতে আগত রাসুলের আগমনের সংবাদও দেন এবং তার ওপর ইমান আনা ও তার সাহায্যে এগিয়ে আসার অঙ্গীকারও গ্রহণ করেন। একজন রাসুলের জন্মস্থান, তার আগমনের সময় ও পরিপ্রেক্ষিত — সবকিছু সম্পর্কেই পূর্ব থেকে সংবাদ দেওয়া থাকে। যখন তিনি পৃথিবীতে আগমন করেন, তখন তিনি স্পষ্ট ভাষায় তার জাতিকে বলেন, “আমি সেই ব্যক্তি, যার জন্য তোমরা প্রতীক্ষা করছিলে।” তিনি ঘোষণা দেন, “তোমাদের গ্রন্থে ও পূর্ববর্তী নবীদের বাণীতে যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, আমিই তার বাস্তব প্রতিফলন।”

২. আল্লাহ তাঁর রাসুলকে এতটা দৃঢ় ও স্পষ্ট নিদর্শনসহ পৃথিবীতে প্রেরণ করেন যে, মানুষের কাছে তিনি সত্যের প্রমাণ হয়ে ওঠেন। অর্থাৎ কোনো জাতির মধ্যে যখন একজন রাসুল আসেন, তখন তার ব্যক্তিত্বই সেই জাতির জন্য সত্যের প্রমাণ (হুজ্জাত) হয়ে ওঠে। এইভাবে সেই জাতির জন্য সত্য ও মিথ্যার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য স্থাপিত হয় এবং তাদের কাছে সত্যের পথ থেকে সরে যাওয়া বা বাতিলকে বেছে নেওয়ার কোনো যথাযথ বাহানা থাকে না। অন্য কথায়, রাসুলদের প্রতি এই অস্বাভাবিক তদারকির ফলশ্রুতিতে তারা পৃথিবীতে আল্লাহর প্রমাণ ও দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠেন। কোনো চিন্তাশীল মানুষের পক্ষে যুক্তি বা প্রমাণের ভিত্তিতে তাদেরকে অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

৩. রাসুলের ক্ষেত্রে আল্লাহর বিশেষ বিধান হলো, যদি তার জাতি তাকে অস্বীকার করে, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে সেই জাতির ওপর আজাব নেমে আসে। কিন্তু এটা নবীদের ক্ষেত্রে ঘটে না। নবীদের জাতি তাদেরকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং কখনো কখনো সেই পরিকল্পনা সফলও হয়েছে; কিন্তু রাসুলের ব্যাপারে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাকে অস্বীকারকারী জাতি কোনো অবস্থাতেই তার ওপর প্রাধান্য বা জয় লাভ করতে পারে না।

৪. রিসালাতের এই বিশেষ বিধানের একটি অনিবার্য ফলাফল হলো, যখন কোনো জাতির প্রতি আল্লাহ নিজের রাসুলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রমাণ (হুজ্জাত) প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তিনি উক্ত রাসুলকে সেই জাতির ওপর বিজয় ও প্রাধান্য দান করেন। তবে এক্ষেত্রে নবী তার জাতির সাথে মুখোমুখি সংগ্রামে পরাজিতও হতে পারেন; কিন্তু রাসুলের জন্য বিজয় অবশ্যই নির্ধারিত। এই বিজয় মূলত দুটি রূপে হতে পারে: কখনো রাসুল নিজ জীবদ্দশাতেই সেই বিজয় লাভ করেন; আবার কখনো রাসুল দুনিয়া থেকে প্রস্থানের পর তাঁর সাহাবিগণ সেই বিজয়ের সম্মান লাভ করেন।

৫. যখন কোনো জাতির মধ্যে আল্লাহ নিজের একজন রাসুল প্রেরণ করেন, তখন সেই জাতি মূলত আল্লাহর শাস্তির দ্বারপ্রান্তে চলে আসে। কারণ, রাসুলের মাধ্যমে সত্য স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার পরও যদি সেই জাতি জেদ, অহংকার ও গোঁড়ামির কারণে অবিশ্বাস ও অস্বীকারের ওপর অটল থাকে, তবে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তারা আর ক্ষমার যোগ্য থাকে না। বরং একটি জাতি হিসেবে তারা তখন আল্লাহর শাস্তি ভোগেরই উপযুক্ত হয়ে ওঠে।

৬. এটা আল্লাহর বিশেষ বিধান, যা তাঁর রাসুলের জন্য নির্দিষ্ট। আর এই বিধানই নবী ও রাসুলের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করে। কুরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে, এটা আল্লাহর সেই চিরন্তন নীতি, যা আল্লাহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং যা পরিবর্তন বা রদবদল করা সম্ভব নয়।

পবিত্র কুরআন বুঝতে হলে এবং কুরআনের মধ্য থেকে আল্লাহর শরিয়ত নির্ধারণ করতে হলে আমাদের অবশ্যই আল্লাহর এই বিশেষ বিধান সম্পর্কে অবগত হতে হবে। আল্লাহর এই বিশেষ বিধান না বোঝার কারণে মুসলমানদের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। এমনকি ইসলামের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উদ্ভব মূলত এই বিধানকে না বোঝার কারণেই হয়েছে। এছাড়াও মুসলমানেরা এই বিশেষ বিধান না বোঝার কারণে ওরিয়েন্টালিস্ট বা প্রাচ্যবিদগণ ইসলামের সমালোচনা করার একটি বিশেষ সুযোগ পেয়ে যান। তারা সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে মোটেও ভুল করেন না।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সুরা আল-বাকারার ২৫৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “লা ইকরাহা ফিদ দীন”, অর্থাৎ ধর্মের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। কিন্তু অন্যদিকে, সুরা তওবার ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:

“এরপর যখন হারাম মাসগুলো অতিবাহিত হবে, তখন এই মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা করো, (এ উদ্দেশ্যে) তাদেরকে পাকড়াও করো, অবরোধ করো এবং প্রত্যেক অতর্কিত হামলার স্থানে তাদের জন্য ওঁৎ পেতে বসো। অতঃপর যদি তারা তওবা করে, নামাজের যত্ন নেয় এবং জাকাত প্রদান করে তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, চির দয়ালু।” (কুরআন, সুরা তওবা, ৯:৫)

স্বাভাবিকভাবে মনে হবে যে, উপরোক্ত দুটি নির্দেশ যেন একে অপরের পরিপূর্ণ বিপরীত। একদিকে ঘোষণা করা হয়েছে, ধর্মের ব্যাপারে কোনো রকম জোরজবরদস্তি নেই; অন্যদিকে বলা হয়েছে, যতক্ষণ না মুশরিকরা ইসলাম গ্রহণ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের রেহাই দেওয়া যাবে না। উল্লেখ্য যে, কুরআন নিজেই নিজের সম্পর্কে ঘোষণা করেছে যে, এটা মানুষের রচিত গ্রন্থের মতো নয়; বরং এটা সব ধরনের মতবিরোধ ও বৈপরীত্য থেকে মুক্ত। সুতরাং, যদি কেউ কুরআনের আয়াতগুলোর মধ্যে এই ধরনের কোনো বিরোধ বা অসংগতি খুঁজে পায়, তবে কুরআনের নিজের বক্তব্য অনুযায়ী সেটা প্রমাণ করবে যে, এই গ্রন্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল নয় (নাউজুবিল্লাহ)।

কোনো সন্দেহ নেই যে, যারা আল্লাহর বিশেষ বিধান সম্পর্কে অবগত নয়, তাদের জন্য কুরআনের এই দুটি আয়াতের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। কিন্তু যখন কেউ আল্লাহর সেই ঐশী বিধানকে সামনে রেখে এই আয়াত দুটি বিবেচনা করবে, তখন তার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, একটি আয়াতে মানুষের জন্য সত্য ও মিথ্যা বেছে নেওয়ার সাধারণ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, আর অপর আয়াতে আল্লাহর একজন রাসুলকে অস্বীকারকারীদের জন্য নির্ধারিত শাস্তির বিধান বর্ণিত হয়েছে। সুরা তওবার সেই আয়াত মূলত মক্কার মুশরিকদের উদ্দেশ্যে নাজিল হয়েছে। তারা যখন রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করেছিল, তখন আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তারা পৃথিবীতে জীবিত থাকার অধিকারই হারিয়ে ফেলেছিল। তাই সেই আয়াতে আল্লাহ মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছেন, এই মুশরিকদের এ ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইমান না আনে।

উপরে আমি বলেছি যে, এই নীতি না বোঝার ফলেই ইসলামের বিপ্লবী দার্শনিক তত্ত্ব জন্ম নিয়েছে। যে আয়াতগুলো সম্পূর্ণভাবে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল, তা সমগ্র উম্মতের জন্য ফরজ মনে করার ফলেই এমনটা হয়েছে। পরবর্তীতে মুসলমানদের সমস্ত প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম ইসলামের দাওয়াহ থেকে চ্যুত হয়ে গিয়েছে। আর এই অপূরণীয় ক্ষতির দায় ধর্মীয় আলেমদের ওপর বর্তায়। কেননা আলেমদের প্রধান কাজ হলো নিজের জাতিকে সংশোধন করা, কিন্তু বর্তমানে তারা জাতির নেতা হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় লিপ্ত হয়েছে। পবিত্র কুরআনের মূল লক্ষ্য হলো আখিরাতের জীবন সুন্দর করার জন্য মানুষকে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া। ক্ষমতার চর্চা করা কুরআনের মূল উদ্দেশ্য নয়। কুরআন চায়, পৃথিবীতে যার ওপর যতটুকু দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সে ততটুকু দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুক; যাতে মৃত্যুর পর সে যখন আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ যেন তার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন।

কুরআনের দৃষ্টিতে এটাই মানুষের প্রকৃত লক্ষ্য এবং এই লক্ষ্য স্মরণ করানোই আলেমদের দায়িত্ব। কিন্তু এই লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে যদি বিপ্লব ও সংগ্রামের দার্শনিক ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হয়, তবে ইসলামের প্রকৃতি শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক আন্দোলনে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, এই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিহাসের এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন মুসলমানরা তাদের শক্তি ও প্রাচুর্য হারিয়ে ফেলেছিল। ফলস্বরূপ, এই দৃষ্টিভঙ্গি মুসলমানদের মধ্যে এক প্রকার আবেগ সৃষ্টি করেছিল এবং খুব দ্রুত পুরো উম্মতের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ এ বিষয়ে লক্ষ্য করেনি যে, এই দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হিসেবে কুরআনের যে সকল আয়াতকে দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো সম্পর্কই আসলে এই ধরনের সংগ্রাম বা বিপ্লবাত্মক আন্দোলনের সঙ্গে নেই।

এই আয়াতগুলো মূলত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জাতির জন্য নির্দিষ্ট ছিল। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার জাতির ওপর আল্লাহর বিশেষ বিধান কার্যকর করেছেন। আর এটাই মূলত রিসালাতের বিশেষ আইন। আল্লাহর এই বিশেষ বিধানের আলোকেই তিনি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সুসংবাদ দিয়েছিলেন যে, আরব ভূখণ্ডে আল্লাহ মুসলিমদের জন্য একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবেন। এটা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তার সাহাবিদের জন্য একটি পুরস্কার। সমগ্র মুসলমানদের জন্য এই বিধান জরুরি নয়।

মইজ আমজাদ

অনুবাদ: ইবনে আনিস ইবনে ইসমাইল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *